‘হেলমেটধারীরা গুলি করে বাবাকে মারে’: রায়েরবাগের রাজপথে হেলমেট ও চাপাতি হাতে সেই তান্ডব মাথায় গুলি ও কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত’
ঢাকা — কোটা সংস্কার আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে ঘরের ভেতরে থেকেও রক্ষা পায়নি চার বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। ১৯ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ মেরাজনগর এলাকায় নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় গুলিতে নিহত হয় সে। তবে সেদিন কেবল শিশু আহাদই নয়, একই এলাকার হেলমেটধারী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ার এবং চাপাতির কোপে প্রাণ হারিয়েছিলেন মাসুদ মিয়া নামের আরেক সাধারণ মানুষ।
আরটিভি নিউজের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই ভয়ংকর ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বিবরণ।
হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়া এবং মাসুদ মিয়ার নির্মম মৃত্যু প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৯ জুলাই বিকেলে রায়েরবাগের মেরাজনগর বি ব্লক মোড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় হঠাৎ করেই একদল হেলমেটধারী যুবক প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে শুরু করে। অনেকের হাতে ছিল পিস্তল, শর্টগান এবং দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি।
সেদিন আসরের নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদমুখী হয়েছিলেন মাসুদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু ঘাতক হেলমেটধারীরা তাকে লক্ষ্য করেও গুলি চালায়। স্থানীয়দের সাক্ষ্য ও স্বজনদের আর্তনাদ অনুযায়ী, মাথায় গুলি লাগার পরও ক্ষান্ত হয়নি সেই দুর্বৃত্তরা। মাটিতে লুটিয়ে পড়া মাসুদ মিয়াকে তারা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এমনকি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যাওয়া বাড়ির মালিকের ছেলেকেও ধাওয়া করে ক্যাসিগেটের ভেতরে গিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।
বাসার বারান্দায় গুলিতে লুটিয়ে পড়া শিশু আহাদ ঠিক একই সময়ে, পাশেই অবস্থিত একটি ১১ তলা ভবনের আটতলার বারান্দায় মা-বাবার সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল চার বছরের শিশু আব্দুল আহাদ। নিচ থেকে হেলমেটধারীদের চালানো এলোপাতাড়ি গুলিতে সরাসরি বিদ্ধ হয় ছোট্ট আহাদের মাথা ও শরীর। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ভবনের দারোয়ান জানান, সেসময় নিচ থেকে এতটাই ঘন ঘন গুলি চালানো হচ্ছিল যে মনে হচ্ছিল কোনো যুদ্ধক্ষেত্র। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নিষ্পাপ আহাদ।
পুলিশের অনুপস্থিতি ও আলামত গায়েবের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৯ জুলাই রায়েরবাগের ওই নির্দিষ্ট এলাকায় সংঘর্ষের সময় কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিল না। হেলমেট পরা কিছু ক্যাডার এবং সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু অস্ত্রধারী মানুষ শিকারের মতো নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। ঘটনার তিন দিন পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি। এছাড়া আশেপাশের দোকানগুলোতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর বা হার্ডডিস্ক পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
উপসংহার ১৯ জুলাই রায়েরবাগের মেরাজনগর এলাকায় হেলমেটধারীদের চালানো সেই তাণ্ডব প্রমাণ করে যে, আন্দোলন দমনের নামে সাধারণ মানুষের ওপর কতটা সুপরিকল্পিত ও নিষ্ঠুর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছিল। শিশু আহাদ ও মাসুদ মিয়ার মতো নিরপরাধ মানুষের রক্তে ভেজা সেই রাজপথ এবং খুনিদের মুখগুলো আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
Comments (0)
Login to leave a comment.
No comments yet. Be the first to comment.
Related posts
জুলাই ৩৬
‘আমার ছেলেরে মারলো ক্যান?’: পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝরে গেল ১০ বছরের শিশু হোসেনের তাজা প্রাণ
জুলাই ৩৬
‘স্বাধীনতা কী, তা বোঝার বয়স ছিল না’: ৫ আগস্টের বিজয়োল্লাসে বুলেটের আঘাতে নিভে যাওয়া ৬ বছরের জাবিরের জীবন প্রদীপ
জুলাই ৩৬