36July
জুলাই ৩৬

আধা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে দমনপীড়ন এবং কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির বিতর্ক

by Ataullah Rahman Polas · · 8 views
আধা সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে দমনপীড়ন এবং কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির বিতর্ক

ঢাকা — ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ভূমিকা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নেত্র নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, তৎকালীন সরকারের সময়ে আন্দোলন দমনে আধা সামরিক বাহিনী বিজিবিকে কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দেশনার উৎস কোথায় ছিল।


বিজিবির উপস্থিতি ও রামপুরার ঘটনা ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবির বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ জুলাই ঢাকার রামপুরা, বনশ্রী ও বাড্ডা এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রামপুরা এলাকায় বিজিবির বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপের মুখোমুখি হলেও পরবর্তীতে সেখানে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের বিবরণে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় বিজিবির গুলিতে বহু হতাহতের তথ্য উঠে এসেছে।


নির্দেশনা ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের বিষয়ে তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কোর কমিটির বৈঠকে এবং সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের নির্দেশনার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কঠোর অবস্থান নেয়। তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিজিবিকে মাঠে নামানো হয়েছিল।


নরসিংদী ও সিলেটে বিজিবির তৎপরতা শুধু ঢাকাই নয়, ঢাকার বাইরে নরসিংদী এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জেও বিজিবির গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নরসিংদীর বিভিন্ন মহাসড়ক ও এলাকায় বিজিবির টহল দল এবং গোলাপগঞ্জে যৌথ অভিযানের সময় সংঘটিত গুলিবর্ষণে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুষ্ঠু বিচার ও নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।


বিচার ও তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে আধা সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের ভূমিকা ও নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক পর্যায়ে নানা আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধের সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts