36July
জুলাই আন্দোলন

ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট: গুলিবিদ্ধ ৩০ সহ আহত শতাধিক

by Ataullah Rahman Polas · · 18 views
ত্রিমুখী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট: গুলিবিদ্ধ ৩০ সহ আহত শতাধিক

চট্টগ্রাম — ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে ডাকা সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিন। সরকার পতনের এই চূড়ান্ত আন্দোলনের দিনে ঢাকা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জের মতো বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও নেমে আসে ভয়াবহ বিভীষিকা। ছাত্র-জনতা, পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষে সেদিন রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রামের নিউ মার্কেটসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।


সকাল থেকেই রাজপথ দখলে নেয় শিক্ষার্থীরা ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় জমায়েতের কথা থাকলেও তার বেশ আগেই চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হাজারো শিক্ষার্থী। তারা বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং সরকার পতনের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।


আওয়ামী লীগের অবস্থান ও ত্রিমুখী সংঘর্ষের শুরু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে যখন একই এলাকায় পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। শুরু হয় বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক এলাকায় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের সাথেও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বেধে যায়, যা পুরো নিউ মার্কেট এলাকাকে একটি ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে।


পুরো নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে সংঘাত নিউ মার্কেটের এই ত্রিমুখী সংঘর্ষ খুব দ্রুতই নগরীর অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারী এবং ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের এই লড়াই ফলমন্ডি, আমতল, তিনপোল, লালদিঘি, আন্দরকিল্লা, এনায়েত বাজার, সিআরবি, কাজির দেউড়ি হয়ে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং রাবার বুলেট ছুড়তে থাকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামানো হয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুধু চট্টগ্রাম নগরীই নয়, সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছিল জেলার পটিয়াতেও।


শতাধিক আহত, হাসপাতালে রক্তের দাগ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই ভয়াবহ সংঘর্ষে রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। দিনভর এই সংঘাতে শতাধিক মানুষ আহত হন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ জনকে সরাসরি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সেদিন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না।


উপসংহার ৪ আগস্ট বা ‘৩৫ জুলাই’-এর এই দিনটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে অন্যতম এক ভয়ংকর দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ থাকবে। একদিকে পুলিশ ও বিজিবি, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রতিরোধ—সবকিছু তুচ্ছ করে চট্টগ্রামের ছাত্র-জনতা সেদিন রাজপথ ছাড়েনি। তাদের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম পরদিনের চূড়ান্ত বিজয়ের পথকে আরও প্রশস্ত করেছিল।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts