36July
জুলাই আন্দোলন

শিক্ষার্থী ছাড়িয়ে রাজপথে নামে সর্বস্তরের মানুষ: শনির আখড়া ও কাজলায় পুলিশ-বিজিবির সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ

by Ataullah Rahman Polas · · 1 views
শিক্ষার্থী ছাড়িয়ে রাজপথে নামে সর্বস্তরের মানুষ: শনির আখড়া ও কাজলায় পুলিশ-বিজিবির সাথে দফায় দফায় সংঘর্ষ

ঢাকা — রাজধানীর দক্ষিণ প্রবেশদ্বার শনির আখড়া, কাজলা ও যাত্রাবাড়ী এলাকা যেন এক নরকীয় যুদ্ধক্ষেত্র। চারপাশ জুড়ে কেবল মুহুর্মুহু টিয়ারশেল, রাবার বুলেট আর সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দ। পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ সত্ত্বেও সাধারণ ছাত্র-জনতার পিছু হঠার কোনো নামগন্ধ ছিল না।

এটিএন নিউজের প্রতিবেদনে উঠে আসা দৃশ্যপট অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার দিনে যাত্রাবাড়ী এলাকা স্থায়ীভাবে একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল।


সকাল থেকেই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও টিয়ারশেলের ধোঁয়া সকাল ৯টার পর থেকেই শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ী মোড় এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। বাতাসের অনুকূলে পুলিশের ছোড়া টিয়ারগ্যাসের ধোঁয়া আন্দোলনকারীদের দিকে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও তীব্র আকার ধারণ করে। একদল আন্দোলনকারী পুলিশের দিকে এগিয়ে যায়, আবার পুলিশের ধাওয়ায় তারা কিছুটা পিছু হটে। এভাবে চলতে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে।

তবে এই সংঘর্ষ শুধু নিচতলার সড়কেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্দোলনকারীরা একপর্যায়ে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের ওপরেও উঠে পড়েন। ওপরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে তাদের তীব্র সংঘাত বাধে এবং বাড়তি পুলিশ সদস্য এসে তাদের ধাওয়া দিয়ে নিচে নামানোর চেষ্টা করে।


ছাত্র ছাড়িয়ে সর্বস্তরের জনতার অংশগ্রহণ এই আন্দোলনে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষার্থীরাই ছিলেন না; শনির আখড়া ও কাজলার লড়াইয়ে বিভিন্ন বয়সের সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পিকেটিং ও রাজপথের প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের এই উপস্থিতি প্রমাণ করেছিল যে আন্দোলনটি কেবল ছাত্রসমাজের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, এটি গণ-আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

উভয়পক্ষের এই তীব্র সংঘর্ষের মাঝেও একটি মানবিক চিত্র দেখা যায়—উভয় পক্ষই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাতায়াতকারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। তবে সার্বিকভাবে পুরো গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে বেশ কয়েকজনকে আটক করে।


উপসংহার যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও কাজলা এলাকার এই লাগাতার সংঘর্ষ ও প্রতিরোধ ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম কঠিন অধ্যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং সাউন্ড গ্রেনেডের গর্জন ছাপিয়ে সাধারণ মানুষের রাজপথ দখলের এই লড়াই ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts