36July
জুলাই আন্দোলন

রণক্ষেত্র সিলেট: ২ আগস্টের গণমিছিলে পুলিশের টিয়ারশেল ও ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধ

by Ataullah Rahman Polas · · 20 views
রণক্ষেত্র সিলেট: ২ আগস্টের গণমিছিলে পুলিশের টিয়ারশেল ও ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধ

সিলেট — ২০২৪ সালের ২ আগস্ট, যা আন্দোলনকারীদের কাছে ‘৩৩ জুলাই’ হিসেবে পরিচিত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দেশের মতো পুণ্যভূমি সিলেটও সেদিন পরিণত হয়েছিল এক রণক্ষেত্রে। জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ গণমিছিলে পুলিশের নির্বিচার টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের পর পুরো আখালিয়া ও মদিনা মার্কেট এলাকা পরিণত হয় যুদ্ধক্ষেত্রে। তবে পুলিশের এত ভারী অস্ত্র ও সাঁজোয়া যানের মুখেও সেদিন একবিন্দু পিছু হটেনি সিলেটের ছাত্র-জনতা।


শাবিপ্রবি গেটে জমায়েত ও মদিনা মার্কেটে পুলিশের বাধা সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ ও যমুনা টিভির ফুটেজ থেকে জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকে জড়ো হতে শুরু করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। এই মিছিলে শুধু ছাত্ররাই নয়, যোগ দিয়েছিলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বেলা তিনটার দিকে বিশাল এই গণমিছিলটি শাবিপ্রবি ফটক থেকে মদিনা মার্কেটের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। কিন্তু মিছিলটি মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল ও মদিনা মার্কেটের মাঝামাঝি এলাকায় পৌঁছাতেই পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। ব্যারিকেড ভেঙে শিক্ষার্থীরা সামনে এগোতে চাইলেই পুলিশ অতর্কিতে তাদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও শটগানের গুলি ছুড়তে শুরু করে।


দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রণক্ষেত্র সিলেট পুলিশের এই অতর্কিত হামলায় মিছিলটি শুরুতে কিছুটা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও, মুহূর্তের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায় ছাত্র-জনতা। শুরু হয় পুলিশের সাথে তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। আখালিয়া, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, বাগবাড়িসহ আশপাশের প্রতিটি গলি যেন পরিণত হয় একেকটি যুদ্ধক্ষেত্রে।

আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধ এতটাই তীব্র ছিল যে, পুলিশ তাদের নিজস্ব বিশেষায়িত টিম (সিআরটি) এবং সাঁজোয়া যান (এপিসি) মাঠে নামাতে বাধ্য হয়। কিন্তু গলিতে গলিতে ছাত্র-জনতার শক্ত অবস্থানের কারণে পুলিশের সেই ভারী প্রতিরোধও বারবার ব্যর্থ হতে থাকে।


সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও হতাহত সেদিন সিলেটের রাজপথে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এই অমানবিক হামলার প্রতিবাদে পাড়ামহল্লার বহু নারী-পুরুষ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরাও রাস্তায় নেমে আসেন এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেন।

রাত ৯টা পর্যন্ত চলা থেমে থেমে এই সংঘর্ষে সিলেটের রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি ও রাবার বুলেটে শিশু, সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হন।


উপসংহার ২ আগস্ট সিলেটের রাজপথে ছাত্র-জনতার এই তীব্র প্রতিরোধ স্বৈরাচারী সরকারের পতনের কফিনে আরও একটি বড় পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। পুলিশের অত্যাধুনিক অস্ত্র আর সাউন্ড গ্রেনেড যে ঐক্যবদ্ধ জনতার সামনে কতটা তুচ্ছ হতে পারে, সিলেটের আখালিয়া ও মদিনা মার্কেটের সেই প্রতিরোধই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আর এই প্রতিরোধের পথ ধরেই মাত্র তিন দিন পর, ৫ আগস্ট অর্জিত হয়েছিল এক নতুন বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয়।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts