36July
জুলাই আন্দোলন

রণক্ষেত্র পাবনা: ১৮ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধ

by Ataullah Rahman Polas · · 22 views
রণক্ষেত্র পাবনা: ১৮ জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও ছাত্র-জনতার তীব্র প্রতিরোধ

পাবনা — ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দেশে চলছে 'কমপ্লিট শাটডাউন' বা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি। এই দিনটিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো উত্তরের জেলা পাবনাও পরিণত হয়েছিল এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে। রাজপথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢল, আর তাদের দমাতে পুলিশের মুহুর্মুহু টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে পাবনা শহর মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল যুদ্ধক্ষেত্রে।


রাজপথে জনতার ঢল ও পুলিশের অ্যাকশন সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ ও যমুনা টিভির সরাসরি ধারণকৃত ফুটেজ থেকে দেখা যায়, সকাল থেকেই পাবনা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অবস্থান নিতে শুরু করেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও, পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আন্দোলনকারীদের জমায়েত লক্ষ্য করে পুলিশ হঠাৎ করেই অ্যাকশনে যায়। রায়ট গিয়ারে সজ্জিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিক্ষার্থীদের ওপর বৃষ্টির মতো টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করতে শুরু করে। বিকট শব্দে এবং টিয়ারগ্যাসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় চারপাশ আচ্ছন্ন হয়ে যায়।


দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া পুলিশের এই অতর্কিত ও বর্বরোচিত ক্র্যাকডাউনের মুখেও সেদিন পাবনার ছাত্র-জনতা রাজপথ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। বরং তারা রাস্তায় ইট-কাঠ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু হয় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের টিয়ারশেলের ধোঁয়ার ভেতর দিয়ে লাঠি হাতে বেরিয়ে আসছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। খালি হাতে, চোখেমুখে ক্ষোভ নিয়ে তারা পুলিশের সাঁজোয়া যান ও পুলিশ সদস্যদের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছেন। দিনভর চলা এই সংঘর্ষে পাবনার রাজপথ পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।


আহত শিক্ষার্থী ও ক্ষোভের আগুন ১৮ জুলাইয়ের এই সংঘর্ষে পাবনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেলের আঘাতে আহত হন। হাসপাতালে বাড়তে থাকে আহতদের ভিড়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং দমন-পীড়ন স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে চরম ক্ষোভের জন্ম দেয়।


উপসংহার পাবনার রাজপথে ১৮ জুলাইয়ের এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম প্রমাণ করেছিল যে, দেশের প্রতিটি প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কতটা ঐক্যবদ্ধ। পুলিশের অত্যাধুনিক অস্ত্র আর সাউন্ড গ্রেনেড যে ঐক্যবদ্ধ তারুণ্যের সামনে কতটা তুচ্ছ হতে পারে, পাবনার সেদিনের প্রতিরোধই ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। এই প্রতিরোধের পথ ধরেই পরবর্তীতে ত্বরান্বিত হয়েছিল ৫ আগস্টের চূড়ান্ত বিজয়।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts