36July
জুলাই আন্দোলন

ফিরে দেখা জুলাই: ২০১৮-এর বাতিল থেকে ২৪-এর ‘বাংলা ব্লকেড’—কোটা নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

by Ataullah Rahman Polas · · 11 views
ফিরে দেখা জুলাই: ২০১৮-এর বাতিল থেকে ২৪-এর ‘বাংলা ব্লকেড’—কোটা নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

ঢাকা — কয়েক বছরের বিরতির পর ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ফের কোটা ইস্যু নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজপথ। ২০১৮ সালের টানা আট মাসের আন্দোলনের পর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করেছিল সরকার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের একটি রায়ে সেই পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার পর থেকেই ফের রাজপথে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা।

শুরুতে চার দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামলেও খুব দ্রুতই এই আন্দোলন ‘বাংলা ব্লকেড’ নামক এক অভিনব ও কঠোর কর্মসূচিতে রূপ নেয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হয়ে দাঁড়ায়—সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কার।


বিতর্কের মূলে কী? স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে ২০ শতাংশ মেধা এবং ৮০ শতাংশ কোটা ছিল। পরবর্তীতে নানা বিবর্তনের মাধ্যমে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ কোটা নির্ধারিত হয়, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটা (নাতিনাতনিসহ)।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান আপত্তি ছিল এই বিশাল সংরক্ষিত আসনের অনুপাত নিয়ে। তাদের দাবি, কোটা কখনোই স্থায়ী হতে পারে না এবং সংরক্ষিত কোটা সবসময় মেধার মূল্যায়নের অর্ধেকের কম হতে হবে। সংবিধানের ২৯ (১) ধারায় সব নাগরিকের সুযোগের সমতার কথা বলা আছে। অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটার বিধান থাকলেও, ৫৬ শতাংশ কোটাকে কোনোভাবেই সংবিধানসম্মত বলে মানতে নারাজ ছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকরি বাগিয়ে নেওয়ার অসংখ্য নজিরও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ ছিল।


‘বাংলা ব্লকেড’ ও এক দফার ডাক নতুন করে ডালপালা মেলা এই আন্দোলন ভিন্নমাত্রার রূপ নেয় যখন শিক্ষার্থীরা ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শহরের মোড় ব্লক করা, রেলপথ অবরোধ এবং এমনকি মেট্রো রেলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।

তাদের এক দফা দাবি ছিল—সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে, সংবিধানে উল্লেখিত অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে এনে সংসদে আইন পাস করতে হবে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য স্পষ্ট ছিল: "আমরা ২০১৮ সালেও কোটা বাতিল চাইনি, আমরা সংস্কার চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার তখন ক্ষোভের বশে পুরোটাই বাতিল করে দেয়।"


আদালত, সরকার ও রাজনীতির ছায়া সরকার এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছিল বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরতে হবে। সরকারপ্রধানও রাজপথের বদলে আদালতের মাধ্যমে সমাধানের কথা বলছিলেন।

অন্যদিকে, যেকোনো বড় গণ-আন্দোলনের মতোই কোটা আন্দোলন নিয়েও রাজনৈতিক মেরুকরণ শুরু হয়। বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর সমর্থন এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির পেছনেও রাজনৈতিক ট্যাগিংয়ের চেষ্টা করা হয়।


উপসংহার জুলাইয়ের শুরুর দিকের এই ‘বাংলা ব্লকেড’ এবং কোটা সংস্কারের যুক্তিতর্কগুলোই মূলত পুরো জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ভিত তৈরি করেছিল। রাজপথের সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো যখন আদালত ও রাজনীতির মারপ্যাঁচে আটকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, ঠিক তখনই এই আন্দোলন একটি চূড়ান্ত বিস্ফোরণের দিকে এগিয়ে যায়, যার পরিণতি আমরা ৫ আগস্ট দেখতে পাই।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts