36July
জুলাই আন্দোলন

'দফা এক, দাবি এক, স্বৈরাচারের পতন চাই': ৩ আগস্ট যেভাবে কেঁপে উঠেছিল শহীদ মিনার

by Ataullah Rahman Polas · · 20 views
'দফা এক, দাবি এক, স্বৈরাচারের পতন চাই': ৩ আগস্ট যেভাবে কেঁপে উঠেছিল শহীদ মিনার

ঢাকা — ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে টার্নিং পয়েন্ট বা চূড়ান্ত মোড় ঘোরার দিন ছিল ৩ আগস্ট। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সেদিন লাখো জনতার জনসমুদ্র থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘোষণা করেছিল ঐতিহাসিক 'এক দফা' দাবি—স্বৈরাচারী সরকারের পতন। আর সেই এক দফা ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসন।


শহীদ মিনারে জনসমুদ্র এবং জনতার ক্ষোভ সেদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ততদিনে সরকার পতনের স্লোগানে উত্তাল করে তুলেছে পুরো বাংলাদেশকে। শহীদ মিনার সেদিন ঝলসে উঠেছিল দ্রোহের আগুনে। মিনারের সীমানা ছাড়িয়ে লাখো কণ্ঠের ক্ষুব্ধ স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে।

আন্দোলনে যোগ দেওয়া সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকরা সেদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন তাদের ক্ষোভের কথা। বিক্ষুব্ধ এক নারী আক্ষেপ নিয়ে বলছিলেন, "এই স্বৈরাচার সরকার আর সহ্য করতে পারতেছি না। আমি ঘরে থাকতে পারতেছি না। আমার কোনো সন্তান নাই, তারপরও আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। আমার বাচ্চাদের নিরাপত্তা চাই। এটা আমার দেশ"।

আরেক অভিভাবক জানান, "আমাদের সন্তানরা বুকের রক্ত দিয়ে আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে স্বৈরাচারকে কীভাবে রুখে দিতে হয়। ফলে সেই স্বৈরাচারের পতনের ঘণ্টা শুধু এখন বাজার বাকি"।


নাহিদ ইসলামের কণ্ঠে চূড়ান্ত ‘এক দফা’ সেদিনের লাখো জনতার উপস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ঐতিহাসিক এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, "বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এই সরকার আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকতে পারবে না"।

দাবিটি তখন আর শুধুই শিক্ষার্থীদের ছিল না, এটি পরিণত হয়েছিল আপামর জনসাধারণের দাবিতে। চারদিক থেকে তখন একটাই আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল— "দফা এক দাবি এক, স্বৈরাচারের পতন চাই"।


পতনের দ্বারপ্রান্তে স্বৈরাচার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞের পর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকেই সরকার পতনের প্রেক্ষাপট তৈরি হতে শুরু করেছিল। শিক্ষার্থী থেকে পেশাজীবী, শিল্পী থেকে বুদ্ধিজীবী—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বজ্রকণ্ঠ চূড়ান্ত বার্তা দিয়েছিল। আর ৩ আগস্টের শহীদ মিনার ছিল সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts