36July
জুলাই আন্দোলন

‘ছাত্রদের নিরাপত্তা কই?’: ১৮ জুলাইয়ের ধ্বংসস্তূপ ও রাজপথে তারুণ্যের অবিচল প্রতিরোধ

by Ataullah Rahman Polas · · 15 views
‘ছাত্রদের নিরাপত্তা কই?’: ১৮ জুলাইয়ের ধ্বংসস্তূপ ও রাজপথে তারুণ্যের অবিচল প্রতিরোধ

ঢাকা — "পুলিশ আমাদের দিকে টিয়ারশেল ছুড়তেছে, গুলি ছুড়তেছে! ছাত্রদের জন্য পুলিশের এই নিরাপত্তা কীসের?"—ক্ষোভ আর হতাশায় কথাগুলো বলছিলেন টিয়ারশেলের ধোঁয়ায় হাঁসফাঁস করা এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে সেদিন পুরো ঢাকা শহর পরিণত হয়েছিল এক ভয়াবহ রণক্ষেত্রে। বাড্ডা থেকে যাত্রাবাড়ী, উত্তরা থেকে ধানমন্ডি—রাজধানীর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।


রামপুরা ও বাড্ডায় সংঘাত, বিটিভি ভবনে আগুন দিনের শুরুতেই মেরুল বাড্ডায় আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশ ও ছাত্রলীগের তীব্র ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের ক্যাম্পাসের সামনে পুলিশের সাথে সংঘাতে জড়ান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রামপুরায় একটি পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এদিন সবচেয়ে বড় ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ওপর। রামপুরায় বিটিভি ভবনের ভেতরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।


রণক্ষেত্র যাত্রাবাড়ী-শনিআখড়া: তিন পক্ষের লড়াই ১৮ জুলাই সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের সাক্ষী হয়েছিল যাত্রাবাড়ী, কাজলা, রায়েরবাগ ও শনিআখড়া এলাকা। সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশ-র‌্যাব এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি সংঘাতে জড়ান।

টোল প্লাজা থেকে শুরু করে পুরো সড়ক জুড়ে তিন পক্ষের এই লড়াইয়ে রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রের রূপ নেয় যাত্রাবাড়ী। মুহুর্মুহু সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে।


উত্তরায় পুলিশের ক্র্যাকডাউন রাজধানীর উত্তরায় রাজলক্ষ্মী ও আজমপুর এলাকায় শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। শিক্ষার্থীরা বারবার পুলিশের সাথে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও পুলিশ তা মানেনি। উল্টো তাদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এতে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হন এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেন।


ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে বৃষ্টির মতো গুলি ধানমন্ডির ২৭ নম্বর, মীনাবাজার গলি, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। চ্যানেল ২৪-এর ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ছেন এবং পুলিশও তাদের দমাতে বৃষ্টির মতো রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করছে। শুক্রাবাদ এলাকায় বেশ কয়েক জায়গায় আগুন ধরানোর ঘটনা ঘটে এবং ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের পুলিশ বক্সটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।


উপসংহার ১৮ জুলাইয়ের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ প্রমাণ করেছিল যে, ঢাকা শহরের নিয়ন্ত্রণ আর রাষ্ট্রযন্ত্রের হাতে নেই। টিয়ারশেল, রাবার বুলেট কিংবা সাউন্ড গ্রেনেড—কোনো কিছুই সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে সরাতে পারেনি। শহরের মোড়ে মোড়ে জ্বলে ওঠা এই ক্ষোভের আগুনই পরবর্তীতে ৫ আগস্টের চূড়ান্ত গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করেছিল।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts