36July
জুলাই আন্দোলন

আগস্টের সেই ভয়ংকর মহড়া: ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর ভারী অস্ত্রের তাণ্ডব ও আড়ালে থাকা খুনিরা

by Ataullah Rahman Polas · · 1 views
আগস্টের সেই ভয়ংকর মহড়া: ফেনীতে ছাত্র-জনতার ওপর ভারী অস্ত্রের তাণ্ডব ও আড়ালে থাকা খুনিরা

ফেনী — "এমন পরিবেশ আমরা ফেনীতে কখনো দেখি নাই! সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর যেভাবে সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত এম-১৬ এর মতো ভারী অস্ত্র দিয়ে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, তা কল্পনাতীত।" আতঙ্কজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ফেনীর এক স্থানীয় বাসিন্দা।

২০২৪ সালের ৪ আগস্ট। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবি ঘিরে সেদিন রক্তে ভেসেছিল ফেনীর রাজপথ। আর এই আন্দোলন দমাতে শহরের অলিগলিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে যে ভারী ও অত্যাধুনিক অস্ত্রের মহড়া চালিয়েছিল, তার ভয়ংকর চিত্র এখন একে একে উন্মোচিত হচ্ছে।


ভারী অস্ত্রের ঝনঝনানি ও পাখির মতো মানুষ শিকার যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপাল ও আশপাশের এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। সাধারণ কোনো অস্ত্র নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সেনাবাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত এম-১৬ (M16) রাইফেলের মতো অত্যন্ত ভয়ঙ্কর ও অত্যাধুনিক ভারী অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছিল ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা।

প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি ছুড়তে দেখা যায় তাদের। ওই নারকীয় হামলায় ফেনীতে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান (যদিও স্থানীয়দের মতে এই সংখ্যা আরও বেশি) এবং আহত হন শতাধিক মানুষ।


চিহ্নিত অস্ত্রধারীরা কারা? দিনের আলোয় প্রকাশ্যে ভারী অস্ত্র নিয়ে এই তাণ্ডব চালানো ব্যক্তিদের অনেকের পরিচয়ই এখন সবার মুখে মুখে। ভিডিও ফুটেজ ও স্থানীয়দের সাক্ষ্য অনুযায়ী চিহ্নিত হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—

  • জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাবলু

  • কাজিরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ

  • জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী প্রমুখ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই প্রভাবশালী নেতারা অস্ত্র প্রদর্শন করলেও প্রশাসন কখনোই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।


বৈধ ও অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি এবং প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে ফেনীতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নামে দুই শতাধিক অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি এই লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্রগুলোও নির্বিচারে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধার এবং অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনার দাবি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অস্ত্র উদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—এত বড় একটা তাণ্ডবের পরও চোখের সামনে ঘুরে বেড়ানো এসব অস্ত্রধারী ও তাদের ব্যবহৃত ভারী অস্ত্রগুলো কবে উদ্ধার হবে?


উপসংহার ফেনীর রাজপথে ৪ আগস্টের সেই ভারী অস্ত্রের মহড়া প্রমাণ করেছিল যে, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগিতায় কতটা হিংস্র রূপ ধারণ করতে পারে দলীয় ক্যাডার বাহিনী। ৫ আগস্টের পর স্বৈরশাসকের পতন ঘটলেও, ফেনীর আকাশে-বাতাসে আজও সেই ভয়ংকর দিনটির আতঙ্ক আর বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষা রয়ে গেছে।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts