36July
জুলাই আন্দোলন

১৭ জুলাই: জাবিতে পুলিশের বৃষ্টির মতো টিয়ারশেল ও শিক্ষার্থীদের অবিচল প্রতিরোধ

by Ataullah Rahman Polas · · 14 views
১৭ জুলাই: জাবিতে পুলিশের বৃষ্টির মতো টিয়ারশেল ও শিক্ষার্থীদের অবিচল প্রতিরোধ

সাভার — "আমরা হল ছাড়ব না, প্রশাসন জবাব চাই!" শিক্ষার্থীদের আকাশভেদী এই স্লোগান এবং মুহুর্মুহু টিয়ারশেলের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। ১৭ জুলাই, ২০২৪—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক উত্তাল দিন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আকস্মিক হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে সেদিন রাজপথে নেমে এসেছিলেন হাজারো শিক্ষার্থী। আর তাদের দমাতে পুলিশ চালিয়েছিল টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও ছররা গুলি।


আকস্মিক নির্দেশ ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। এর আগের দিনই প্রশাসন জানিয়েছিল হল ভ্যাকেন্ট (খালি) করা হবে না। কিন্তু ১৭ জুলাই হঠাৎ করেই বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরটিভির ফুটেজে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়, "সিন্ডিকেটের কোনো সিদ্ধান্ত ৬ মাসের আগে পরিবর্তন করা যায় না, তাহলে আজ কেন আইনের বাইরে গিয়ে হল ভ্যাকেন্ট দেওয়া হলো?"

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক ও মানবিক। এর আগে ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছিল। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো সাধারণ শিক্ষার্থীদেরই নিরাপত্তাহীনতার অজুহাত দেখিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছিল। এক নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "রাস্তার সব জায়গায় ব্লক, অনেক দূরে যাদের বাসা তারা এই অল্প সময়ে কীভাবে বাড়ি যাবে? প্রশাসন আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বদলে আমাদের বিপদে ঠেলে দিচ্ছে।"


‘আমরা হল ছাড়ব না’ প্রশাসনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা হলে হলে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা দাবি জানান, প্রশাসনকে হলে এসে লিখিত দিতে হবে যে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। "আমরা হল ছাড়ব না, প্রশাসন জবাব চাই"—স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করলেও, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন।


রণক্ষেত্র ক্যাম্পাস ও পুলিশের ক্র্যাকডাউন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক অবস্থানের একপর্যায়ে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীদের জমায়েত লক্ষ্য করে পুলিশ বৃষ্টির মতো টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে শুরু করে। ছোড়া হয় শটগানের ছররা গুলিও।

ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বর মুহূর্তেই টিয়ারগ্যাসের বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত হন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ফুটেজে এক শিক্ষার্থীকে আর্তনাদ করতে শোনা যায়, "আমার হাতে হিট লাগছে!" আরেকজন চিৎকার করে সতর্ক করছিলেন, "গুলি আসছে, রুমাল বের করো!" আহত রক্তাক্ত সহপাঠীদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন অন্য শিক্ষার্থীরা।


উপসংহার ১৭ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রতিরোধ শুধু একটি ক্যাম্পাসের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রশাসনের হঠকারী নির্দেশ এবং পুলিশের বুলেটের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে জাবির শিক্ষার্থীরা সেদিন প্রমাণ করেছিলেন, কোনো স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তই এই প্রজন্মকে মাথা নত করাতে পারবে না। তাদের এই অকুতোভয় লড়াই জুলাই বিপ্লবের ইতিহাসে এক জ্বলন্ত অধ্যায় হয়ে থাকবে।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts