36July
জুলাই আন্দোলন

১৭ জুলাই: গায়েবানা জানাজায় পুলিশের হামলা এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণার সেই উত্তাল দিন

by Ataullah Rahman Polas · · 39 views
১৭ জুলাই: গায়েবানা জানাজায় পুলিশের হামলা এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণার সেই উত্তাল দিন

ঢাকা — ১৭ জুলাই ২০২৪, বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লব বা ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মোড় ঘোরানো দিন। আগের দিনের শহীদদের স্মরণে আয়োজিত গায়েবানা জানাজায় পুলিশের বর্বরোচিত হামলা এবং এর প্রতিবাদে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ বা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে সেদিন কোটা সংস্কার আন্দোলন এক নতুন রূপ পেয়েছিল।

গায়েবানা জানাজায় পুলিশের অতর্কিত হামলা ১৬ জুলাই আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান জানাতে ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করেছিল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শোকাবহ এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও পুলিশ অতর্কিত আক্রমণ চালায়। শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ এবং রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়। এর ফলে ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয় ।

‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ডাক শোকের আবহে গায়েবানা জানাজার মতো ধর্মীয় ও সংবেদনশীল কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থীরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এই পুলিশি নিপীড়নের প্রতিবাদে এবং নিজেদের দাবি আদায়ে আন্দোলনকে আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর প্রেক্ষিতে পরদিন, অর্থাৎ ১৮ জুলাই থেকে সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় ।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, অফিস-আদালত এবং গণপরিবহন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার ও পাশে থাকার উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ পরিস্থিতি যখন ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি চলমান ঘটনাবলির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং হত্যাকাণ্ডের একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি তিনি আন্দোলনকারীদের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কেউ যেন নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক করেন।

দমানো যায়নি আন্দোলনের দাবানল প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বা পুলিশের কঠোর দমন-পীড়ন—কোনো কিছুই সেদিন শিক্ষার্থীদের দমাতে পারেনি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে। তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি দমাতে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও আন্দোলনের মাত্রা একটুও কমেনি। বরং দেশের অধিকাংশ জনগণ এবং রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করে, যা পরবর্তীতে একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts