36July
জুলাই আন্দোলন

১৬ জুলাই: ‘অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগানে যেভাবে টাঙ্গাইলের মহাসড়ক কাঁপালো শিক্ষার্থীরা

by Ataullah Rahman Polas · · 20 views
১৬ জুলাই: ‘অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ স্লোগানে যেভাবে টাঙ্গাইলের মহাসড়ক কাঁপালো শিক্ষার্থীরা

টাঙ্গাইল — "আমাদের তো মহাসড়কে থাকার কথা না, আমরা থাকব পড়ার টেবিলে, আমরা থাকব ক্লাসে। নৈতিক অধিকার আদায়ের লড়াই করতে গিয়ে আমরা রাজাকার হয়ে গেলাম!"—ক্ষোভ আর হতাশায় কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের রাজপথে নেমে আসা এক শিক্ষার্থী।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। আগের দিন (১৫ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নির্মম হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে টাঙ্গাইল। আন্দোলনবিরোধীদের হামলার মুখেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।


‘অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ যমুনা টিভির ফুটেজে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের রাজপথ প্রকম্পিত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের আকাশভেদী স্লোগানে। "আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই", "অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন"—স্লোগান দিয়ে মহাসড়ক নিজেদের দখলে নেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঢাবিতে নিরাপত্তা নাই, চবিতে নিরাপত্তা নাই, আমরা কীভাবে ভাবব যে আমরা নিরাপদ আছি? আমাদের ভাইদের বুকে গুলি চালানো হলো, বোনদের অযথা মারা হলো কেন? আমরা এটার বিচার চাই।"

শিক্ষার্থীরা বারবার জোর দিয়ে বলেন যে তারা সম্পূর্ণ অহিংস এবং নিরস্ত্রভাবে তাদের অধিকার আদায় করতে এসেছেন। আন্দোলনরত আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "আমরা খালি হাতে আসছি, কোনো অস্ত্র আনি নাই। আমরা খুব শান্তভাবে জাস্ট একটা জিনিসই চাই—কোটার বিরুদ্ধে যে দাবিদাওয়া আমরা তুলছি, সেটা যেন সরকার মেনে নেয়।"


‘দাবি যৌক্তিক, কিন্তু পদ্ধতি অযৌক্তিক’—পুলিশের ভাষ্য মহাসড়ক অবরোধের একপর্যায়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। পুলিশ কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের শান্ত করার এবং মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরাতে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশে বলেন, "তোমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করো, মিছিল দাও, কিন্তু দয়া করে রাস্তাটা চালু রাখো। এখানে হাজার হাজার গাড়ি চলছে, লক্ষ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করছে।"

চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের একপ্রকার পরোক্ষ সতর্কবার্তা দিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "তোমরা সবাই চাকরিপ্রত্যাশী। তোমাদের অবশ্যই এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে তোমাদের নাম একটা বাজে খাতায় আসে।" এরপর তিনি শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, "তোমাদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু অসাংবিধানিক পদ্ধতিতে নয়... অযৌক্তিক উপায়ে সেটা বলা যাবে না।"


উপসংহার ১৬ জুলাই টাঙ্গাইলের এই মহাসড়ক অবরোধ প্রমাণ করেছিল যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবানল শুধু আর ঢাকার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরার প্রতিবাদে সারা দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে যেকোনো মূল্যে রাজপথে নামতে প্রস্তুত, টাঙ্গাইলের এই প্রতিবাদী জমায়েত তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ ছিল।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts