36July
জুলাইয়ের ইতিহাস

যেদিন সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছিল অসাধারণ, রক্তের দাগে পতন ঘটেছিল স্বৈরাচারের

by Ataullah Rahman Polas · · 25 views
যেদিন সাধারণ মানুষ হয়ে উঠেছিল অসাধারণ, রক্তের দাগে পতন ঘটেছিল স্বৈরাচারের

ঢাকা — ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ৩৬তম দিন, যাকে ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী করে রাখা হয়েছে ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে। মানুষ, মানুষ আর মানুষ এত মানুষের এমন এক কাতারে একাত্ম হওয়া আন্দোলন পৃথিবী কবে দেখেছে, তা হয়তো গবেষণার বিষয়। তবে সেদিন বাংলাদেশের রাজপথে স্লোগান, আন্দোলন, প্রতিবাদ আর লেগে থাকা রক্তের দাগে যবনিকা ঘটেছিল এক প্রবল পরাক্রমশালী স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার।


সাধারণের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প এই ৩৬ দিনের আন্দোলন শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। আন্দোলনের ব্যাপকতায় পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সরকারপ্রধানসহ সংসদ সদস্য, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এমনকি জাতীয় মসজিদের খতিবও পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু এই পতনের মূল কারিগর কারা? তারা হলেন এই দেশের সাধারণ মানুষ, যারা চরম সংকটে হয়ে উঠেছিলেন অসাধারণ যোদ্ধা।

শিক্ষার্থীদের ওপর যখন চরম আক্রমণ ও ভয়াবহ নির্যাতন নেমে আসে, তখন বিবেকের তাড়নায় জীবনের হুমকি জেনেও রাজপথে নেমে এসেছিলেন শিক্ষকরা। তারা বলেছিলেন, "এখন চুপ থাকা অপরাধ।" সেদিন কোনো পিতা-মাতা বা অভিভাবক তাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালানো মেনে নিতে পারেননি। তাই তো শুধু ছাত্র নয়, পথে নেমেছিলেন মায়েরা যারা এতদিন সন্তানকে ঘরে ফিরিয়ে নিতে চাইতেন। নেমেছিলেন বাবারা, শহীদ পরিবারের সদস্যরা, গৃহিণী, ইমাম, শ্রমিক, গার্মেন্টস মালিক, রিকশাচালক সবাই।


নেই ঢাল, নেই তলোয়ার; তবু অটল যোদ্ধা জুলাইয়ের প্রতিদিনই যেন ছিল এক রণক্ষেত্র। সেখানে একেকজন বিক্ষোভরত তরুণ যেন হাজির হয়েছিলেন আলেকজান্ডার বা নেপোলিয়নের মতো অটল যোদ্ধা বেশে। তাদের নেই ঢাল, নেই তলোয়ার; ছিল শুধু বুকভরা সাহস। খোলা সড়কে পুলিশের বুলেটের সামনে হাতে থাকা টিনের টুকরো আর সামান্য ব্যারিকেড দিয়েই তারা কাঁপন ধরিয়েছিলেন স্বৈরশাসকের মসনদে।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক তরুণ জানান, টিনের টুকরো হাতে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল শুধু ঢাল বানানো নয়, বরং পেছনের লোকজনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আসার সাহস জোগানো। অন্যদিকে, এক তরুণী পুলিশের গাড়ি থামিয়ে সুপারম্যানের মতো দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন পুরো বাংলাদেশের শক্তি আজ তাদের সাথে।


লং মার্চ টু ঢাকা এবং এক নতুন বাংলাদেশ ৫ আগস্টের 'লং মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচিতে দাবি ও অঙ্গীকার ছিল একটাই—সরকার পতন। কারফিউ ও ব্যারিকেড ভেঙে, গুলির ভয় প্রতিহত করে সেদিন যে জনস্রোত তৈরি হয়েছিল, তা ছিল এক অবিশ্বাস্য ঐক্যের প্রতীক। সেই মিছিলে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না; সবার পরিচয় ছিল একটাই বাংলাদেশ’।

রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম ও আদিম সাহসিকতায় লড়াই করা এই বীরদের স্যালুট জানিয়েছিল পুরো দেশ। সেদিন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল। তাদের একটাই লক্ষ্য, একটাই স্বপ্ন—বৈষম্যহীন এক নতুন বাংলাদেশ। স্বৈরশাসনের পতনের মূলনায়ক এই সাধারণ মানুষগুলোই প্রমাণ করে দিয়েছেন, যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন কোনো বুলেটই জনতার স্রোতকে রুখতে পারে না।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts