36July
জুলাইয়ের ইতিহাস

‘মুরগির খাঁচার চেয়েও ছোট প্রকোষ্ঠ, ভেতরে বসেই প্রস্রাব-পায়খানা’: র‍্যাবের সেই কুখ্যাত আয়নাঘর উন্মোচন

by Ataullah Rahman Polas · · 1 views
‘মুরগির খাঁচার চেয়েও ছোট প্রকোষ্ঠ, ভেতরে বসেই প্রস্রাব-পায়খানা’: র‍্যাবের সেই কুখ্যাত আয়নাঘর উন্মোচন

ঢাকা — ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়া মানুষদের আটকে রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থায় গড়ে তোলা হয়েছিল একাধিক গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’। এর মধ্যে র‍্যাবের নিয়ন্ত্রণে থাকা কুখ্যাত টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (TFI) সেলের ভেতরে মানুষের ওপর চালানো পৈশাচিক নির্যাতনের আরও এক ভয়ংকর ও লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে।

চ্যানেল ২৪-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে র‍্যাবের এই গোপন বন্দিশালার ভেতরে তৈরি করা অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও অবমাননাকর প্রকোষ্ঠগুলোর বাস্তবরূপ তুলে ধরা হয়েছে।

মুরগির খাঁচার মতো প্রকোষ্ঠ ও অমানবিক বন্দিদশা প্রতিবেদনে দেখা যায়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের আটকে রাখার জন্য টিএফআই (TFI) সেলের ভেতরে এমন কিছু ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ বা ঘর তৈরি করা হয়েছিল, যার উচ্চতা মোটে ৩ থেকে ৪ ফুট (প্রায় ৪১ থেকে ৫৩ ইঞ্চি)। এগুলোতে কোনো পূর্ণবয়স্ক মানুষের সোজা হয়ে দাঁড়ানোর বা স্বস্তিতে বসার ন্যূনতম সুযোগ ছিল না।

এই প্রকোষ্ঠগুলোকে মুরগির খাঁচার সঙ্গে তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে মানুষকে এমন একটি সংকীর্ণ ও দমবন্ধ করা জায়গায় আটকে রাখা হতো। ঘরের ভেতরেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো করে প্রস্রাব-পায়খানার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, অর্থাৎ বন্দিদের খাওয়ার জায়গা থেকে শুরু করে সবকিছুই হতো ওই বন্দিশালার ওই নির্দিষ্ট ক্ষুদ্র জায়গার মধ্যেই। সামান্য সময় সেখানে অবস্থান করলেই দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হয়। অথচ বছরের পর বছর ধরে গুম হওয়া বন্দিরা এই নরকযন্ত্রণা সহ্য করেছেন।

সাউন্ডপ্রুফ সেল ও নিষিদ্ধ জগত রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী, বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং জঙ্গি সন্দেহে তুলে আনা ব্যক্তিদের এই সেলে বছরের পর বছর ধরে আটকে রাখা হতো। জানা যায়, প্রাথমিকভাবে প্রকোষ্ঠগুলো কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরবর্তীতে তা র‍্যাব ইন্টেলিজেন্সের অধীনে চলে যায়।

র‍্যাবের সাধারণ সদস্যদেরও এই বিল্ডিংয়ের আশপাশে আসা বা সেটির দিকে তাকানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। বন্দিশালার ভেতরে চলা অমানবিক নির্যাতনের কোনো শব্দ যেন বাইরে না যায়, সে জন্য পুরো জায়গাটি সম্পূর্ণ সাউন্ডপ্রুফ করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই গোপন বন্দিশালাগুলোর আলামত নষ্ট বা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরবর্তীতে গুম কমিশন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সহায়তায় ব্লকেড ভেঙে এসব প্রকোষ্ঠ চিহ্নিত করা হয়।

উপসংহার র‍্যাবের টিএফআই সেলের এই মুরগির খাঁচার মতো প্রকোষ্ঠগুলো প্রমাণ করে যে, তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবতা কোন পর্যায়ে লুণ্ঠন করেছিল। গুম কমিশন ও সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উন্মোচিত হওয়া এই ভয়ংকর তথ্যগুলো ভবিষ্যতে অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সবচেয়ে বড় দলিল হিসেবে কাজ করবে।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts