আন্দোলন দানা বাঁধলে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ঢাল, বিজয়ের পর পড়ার টেবিলে ফেরা সেই তরুণদের কণ্ঠে আজ অপূর্ণতার আক্ষেপ
ঢাকা — জুলাই অভ্যুত্থান বর্তমান প্রজন্মের কাছে কেবল একটি ইতিহাস নয়, এটি অধিকার, ন্যায় ও মর্যাদার এক অদম্য অনুভূতির নাম। ২০২৪ সালের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তখন জীবনের পরোয়া না করে রাজপথে নেমে এসে গণঅভ্যুত্থানকে নতুন গতি দিয়েছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তারা।
কিন্তু সফল সেই আন্দোলনের দুই বছর পর এসে সেই সম্মুখসারির যোদ্ধারা আজ কোথায় আছেন এবং কেমন আছে তাদের জুলাইয়ের স্বপ্নগুলো? যমুনা টিভির বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সেই তরুণদের অপ্রিয় সত্য কিছু ভাবনা ও অপূর্ণতার গল্প।
পড়ার টেবিলে ফেরা এবং জুলাইয়ের প্রত্যাশা বনাম প্রাপ্তি রক্তক্ষয়ী ও সফল এক আন্দোলনের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষার্থীই ফিরে গেছেন তাদের নিজ নিজ পড়ার টেবিলে, ক্লাসরুমে কিংবা সেমিস্টারের ব্যস্ততায়। তাদের মধ্যে সরাসরি রাজনীতিতে জড়ানোর আগ্রহ খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু জুলাই ঘিরে যে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যে বাস্তবতার সাথে পুরোপুরি মিলছে না—তা অকপটে স্বীকার করছেন তারা।
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করে জানান, তারা চেয়েছিল ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্ত এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে জনগণের প্রকৃত রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকবে এবং নীতিনির্ধারণী প্রতিটি ক্ষেত্রে মেধার মূল্যায়ন বা ‘মেরিট্রেসি’ নিশ্চিত হবে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন উল্লেখ করে এক শিক্ষার্থী আক্ষেপের সুরে বলেন, "আমার প্রত্যাশার ১০ পার্সেন্টও পূরণ হয়নি! মনে হয়েছিল জুলাইয়ের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা ছিল মেধার মূল্যায়ন। কিন্তু আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন যা দেখেছি, তা হলো মেরিট্রেসি থেকে খুব দ্রুত মবস্রোতের দিকে ঝুঁকে পড়া। আর দুর্নীতি তো আজও পুরোপুরি দূর হয়নি।" অন্য এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, দিনশেষে সাধারণ মানুষ কেবল রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
মূল্যায়নহীনতা ও নিজেদের মধ্যকার দূরত্বের ক্ষোভ আন্দোলনের সময় সম্মুখসারিতে থাকলেও পরবর্তীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, রাজনৈতিক বিভিন্ন স্বার্থের সাথে মিশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় তাদের ব্যবহার করা হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা হয়নি।
এছাড়া বিজয়ের পর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভেতরের ঐক্য বা বন্ডিংয়েও ফাটল ধরেছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের নিজস্ব কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা ওরিয়েন্টেশন না থাকায় আন্দোলনের পর সেই সম্মিলিত শক্তিকে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি, যা তাদের মনে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব ও হতাশার সৃষ্টি করেছে।
উপসংহার জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ এ দেশের ইতিহাসে চিরদিন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। রাজপথে তাদের সেই সাহসী ভূমিকা যেমন স্বৈরাচার পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল, তেমনি আজ তাদের কণ্ঠে উঠে আসা আক্ষেপ ও সংস্কারের আকুতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারকদের জন্য এক গভীর বার্তা। জুলাইয়ের সেই রঙিন স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দায়িত্ব আজও ফুরিয়ে যায়নি।
Comments (0)
Login to leave a comment.
No comments yet. Be the first to comment.
Related posts
জুলাই বিশেষ
জুলাই, বঙ্গভবনের দিকে মিছিলের ঘোষণা দিলেন বিক্ষোভকারীরা।
২০২৪ সালের ১৩ই জুলাই, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন’ অবরোধের কৌশল পরিবর্তন করে মিছিল ও প্রতীকী পদযাত্রার মাধ্যমে নতুন একগুচ্ছ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
জুলাই বিশেষ
দুই জুলাই যোদ্ধা ও এক বৃদ্ধকে রিকশা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ঢাকা, ০৮ আগস্ট, ২০২৬- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুই জুলাই যোদ্ধা ও এক ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী হতে এবং তাদের জীবনধারণে সহায়তা করার জন্য পাঁচটি রিকশা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী ১০ জুলাইয়ের নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেছেন।
ঢাকা, ০৮ আগস্ট, ২০২৬- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও গুরুতর আহত ১০ জন ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন।