36July
জুলাইয়ের ইতিহাস

২৪ জুলাই: ইন্টারনেট চালুর পর প্রকাশ পায় দমন-পীড়নের চিত্র, চোখ বাঁধা অবস্থায় মেলে নিখোঁজ সমন্বয়কদের খোঁজ

by Ataullah Rahman Polas · · 43 views
২৪ জুলাই: ইন্টারনেট চালুর পর প্রকাশ পায় দমন-পীড়নের চিত্র, চোখ বাঁধা অবস্থায় মেলে নিখোঁজ সমন্বয়কদের খোঁজ

ঢাকা — বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে ২৪ জুলাই ছিল অন্যতম একটি 'টার্নিং পয়েন্ট'। একদিকে টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হলে দেশজুড়ে চালানো সরকারি দমন-পীড়ন ও বীভৎসতার চিত্র সামনে আসতে শুরু করে। অন্যদিকে, দীর্ঘ পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর এদিন চোখ বাঁধা অবস্থায় সন্ধান মেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারের।

নিখোঁজ সমন্বয়কদের সন্ধান ও নির্যাতনের বিবরণ ১৯ জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকা সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার এবং রিফাত রশীদের খোঁজ মেলে ২৪ জুলাই। ফিরে আসার পর তারা জানান, অজ্ঞাত কয়েকজন তাদের চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে তাদের ওপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। সমন্বয়করা জানান, তাদের হাত ও চোখ বেঁধে জমটুপি পরিয়ে ঝুলিয়ে রেখে মারধর করা হয়। মূলত আন্দোলনের নেতৃত্বকে সাধারণ জনতা থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যই এই কৌশল নিয়েছিল তৎকালীন সরকার। তবে রাজপথে অন্য শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেতৃত্ব দেওয়ায় সরকারের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।

ইন্টারনেট সচল ও বীভৎসতার চিত্র প্রকাশ ১৮ জুলাই থেকে দেশজুড়ে পুরোপুরি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। ২৪ জুলাই চাপের মুখে পড়ে সীমিত পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু করা হয়। এরপরই সারা দেশের মানুষ জানতে পারে গত কয়েকদিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চালানো নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ ও দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র। ছোট্ট শিশু রিয়া গোপসহ অনেক নিরীহ প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অদ্ভুত দাবি করে বলেছিলেন, "সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করেনি, ইন্টারনেট নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেছে।"

জাতিসংঘের লোগোযুক্ত যান ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা আন্দোলন দমনে মাঠে নামা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত যানগুলোর মধ্যে জাতিসংঘের (UN) লোগো সংবলিত যান দেখা যায়, যা দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। এ বিষয়ে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করলে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র হাছান মাহমুদ দাবি করেন যে, ভুলবশত জাতিসংঘের লোগো মোছা হয়নি।

গ্রেপ্তার, কারফিউ এবং রাজপথের দখল ২৪ জুলাই পঞ্চম দিনের মতো দেশজুড়ে কারফিউ বলবৎ ছিল, তবে তা কিছুটা শিথিল করে টানা তিন দিন পর সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেওয়া হয়। এদিন পর্যন্ত বিভিন্ন মামলায় অন্তত ১৭৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এত গ্রেপ্তার, খুন ও গুমের আতঙ্কের পরও ছাত্র-জনতা রাজপথের দখল ছাড়েনি।

সমন্বয়কদের ভাষ্যমতে, ১৬ জুলাইয়ের পর থেকেই আন্দোলনের ধরন পাল্টে যায়। লাশের পাহাড় ডিঙিয়ে শুধু কোটা সংস্কার নয়, বরং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার এক দফার দিকেই ধাবিত হতে থাকে ২৪ জুলাইয়ের এই আন্দোলন।


Comments (0)

Login to leave a comment.

No comments yet. Be the first to comment.


Related posts